প্রার্থিতা বাতিলের পর প্রথম প্রতিক্রিয়ায় মনে হয়েছিল—হয়তো স্বাক্ষর সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। এমনকি এ কারণে সংশ্লিষ্ট টিমের ওপর ক্ষোভও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে অনুসন্ধানে যে তথ্য পাওয়া গেছে, তা কেবল উদ্বেগজনক নয়—বরং পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

১. ভোটার যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন
রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতিবেদনে যেসব ভোটারের স্বাক্ষর “মেলেনি” বা “দেওয়া হয়নি” বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের একজন সরাসরি জানিয়েছেন—তার সঙ্গে এ বিষয়ে কেউ কোনো যোগাযোগই করেনি। অর্থাৎ ভোটারের বক্তব্য না শুনেই, যাচাই না করেই তাকে “স্বাক্ষর দেননি” বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ভোটারের সাথে কথা না বলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে সেটি নিছক প্রশাসনিক ভুল নয়; বরং এটি পরিকল্পিত হয়রানি এবং নির্বাচনের আগেই একজন প্রার্থীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা বলেই প্রতীয়মান হয়।
২. আপিল প্রক্রিয়ায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ
বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে, কয়েকজনকে হুমকি দেওয়া হয়েছে যেন তারা আপিলের সময় ফারুকী হুজুরের পক্ষে অবস্থান না নেন। যদি এই অভিযোগ সত্য হয়, তবে এটি শুধু একটি প্রার্থীর অধিকার লঙ্ঘন নয়—বরং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।
৩. লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের অনুপস্থিতি
প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসন যখন একযোগে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তখন নির্বাচনে সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকে না। এমন বাস্তবতায় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করাও কঠিন হয়ে পড়ে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়াই যেখানে কাঠখড় পোড়ানোর মতো কঠিন, সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে সেই পথকে আরও দুর্গম করে তোলা হয়েছে।
৪. অসংগতি বনাম বাছাইকৃত প্রয়োগ
বাস্তবতা হলো—৫ হাজার ভোটারের স্বাক্ষরের তালিকা শতভাগ নিখুঁত করা প্রায় অসম্ভব, এবং এই ধরনের সামান্য অসংগতি প্রায় সব প্রার্থীর ক্ষেত্রেই থাকে। কিন্তু দেখা যায়, যাকে আটকানোর প্রয়োজন মনে করা হয়, কেবল তাকেই এসব অসংগতির অজুহাতে আটকে দেওয়া হয়।
ফারুকী হুজুরের ক্ষেত্রে প্রকৃত ও নিরপেক্ষভাবে কোনো অসংগতি অনুসন্ধান করা হয়নি বলেই প্রতীয়মান হয়। বরং ইচ্ছেমতো বানোয়াট বা একপেশে প্রতিবেদন দিয়েই প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
৫. ব্যক্তি নয়, একটি আদর্শকে ঘিরে অবস্থান
ফারুকী হুজুর এই নোংরা রাজনৈতিক বাস্তবতায় আসতে আগ্রহী ছিলেন না। আমাদের সকলের অনুরোধেই তিনি এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি প্রার্থী থাকুন বা না থাকুন—এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান থেমে যাবে না।
একজন সিরাজুল ইসলাম ফারুকীর প্রার্থিতা আটকানো মানে এই নয় যে তিনি বা এই আন্দোলন শেষ হয়ে গেছে। এখানে ব্যক্তি মুখ্য নয়; ফুলতলী দরবারের হুকুম, আদর্শ ও অবস্থানই আসল শক্তি।
দলের ভেতরে বিভাজন তৈরির যেকোনো কৌশল শেষ পর্যন্ত ব্যুমেরাং হয়েই ফিরে আসবে। এই অবস্থান এতটাই সুদৃঢ় যে তা টলানো সহজ নয়।
ট্রল হোক, রাজনৈতিক কৌশল হোক—সবকিছুর জবাব রাজপথে ও নৈতিক অবস্থানে দেওয়া হবে ।ইনশাআল্লাহ।