

কিন্তু গণেশ উল্টে গেছে নদীতে। বাইতুলফালা জামে মসজিদ সংস্কারের জন্য ই-টেন্ডারের মাধ্যমে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বরাদ্দ আসে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকা। এই তথ্য মসজিদ কমিটি জানে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘এ বিষয়ে তাদের কিছুই জানানো হয়নি।’
সিরাজুল ইসলাম মিরণ বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের একটা মিটিংয়ে আমরা জানতে পারি, আমাদের বাইতুলফালাহ জামে মসজিদের নামে ১১ লাখ ৮১ হাজার টাকার একটা বাজেট আসছে। উনারা ওই অতীতে বলছেন ব্যক্তি দিছে, অহন আমরা পরে দেখি এটা সরকারিভাবে কাজটা আসছে।’
মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাতের ঘটনা শুনে অবাক স্থানীয় বাসিন্দারা। বলেন, ‘সংসদে দাঁড়িয়ে নীতিকথা বলা হাসনাত আব্দুল্লাহ নিজ এলাকায় লুটপাটের সংস্কৃতি চালু করবেন এটি তারা কখনো ভাবেননি।’
মসজিদ কমিটির উপদেষ্টা মিরণ বলেন, ‘হাসনাত ভাই উনি সবসময় নীতিতে থাকেন। উনি আমাদের সাথে ১২ লাখ টাকার বাজেটের প্রতারণা করছেন, এটা ভালো দেখা যায় নাই। এটা ভালো যুক্তিতে আসে নাই। এটা আমাদের সমাজবাসীর মনে খুব কষ্ট লেগেছে। যারা সরকারি বাজেট দেন তাদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে বিষয়টা যেন একটু দেখেন।’
এ বিষয়ে ই-টেন্ডার আবেদনকারী ব্যক্তি ইয়াহিয়ার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, টেন্ডার তিনি আবেদন করেছিলেন ঠিকই কিন্তু কত টাকা বরাদ্দ এসেছে সেটি তিনি জানেন না।
ইয়াহিয়া বলেন, ‘কত টাকা বরাদ্দ এসেছে সেটা জেলা পরিষদের লোকেরা ভালো জানেন, আর যিনি কাজ করছেন উনি ভালো জানেন। আমাদের কাগজ দেখান নাই। এটার বরাদ্দ কত টাকা আসছে ওইটা পর্যন্ত আমাদের জানানো হয়নি। আমাদের নানা টালবাহানা দেখাইছে।’
পরে ঠিকাদার মেসার্স মমতাজ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. ফরহাদুল মিজানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তিনি জানান, কার্যাদেশ তিনি পেয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু সেই কাজ সাব-ঠিকাদার বিল্লাল হোসেনকে দিয়ে করিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘বিক্রি না, যাকে কাজ দিছি তিনি আমার পরিচিত আরকি। এটা জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার জানেন। এটার কোনো অনিয়ম হওয়ার কথা না। কারণ জেলা পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার দাঁড়ায়ে কাজ তদারকি করেন।’
বিল্লাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, তিনি কাজটি হাত বদল করে দিয়েছেন রিয়াদ নামের আরেক ব্যক্তির কাছে, যিনি স্থানীয় এনসিপির রাজনীতির সাথে জড়িত।
জানা যায়, বিল্লাল দেবিদ্বার ক্যাপ্টেন সুজাত আলী সরকারি কলেজের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সভাপতি ও জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি।
বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি কাজ করি না, ছোট ভাই রিয়াদকে দিয়ে দিছি। আমি তিন-চার বছর দেবিদ্বারে কোনো কাজ করিনি। কিন্তু দুই-একজনকে কাজ নিয়ে দিছি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এক সময় ঠিকাদারি করতাম। ছোট ভাই রিয়াদ নতুন আরকি, এনসিপিতে সংযুক্ত আছে কিনা আমি সঠিক জানি না। ছেলেটা আবার ওই মেইন ঠিকাদার থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসছে এবং এটা ৫ শতাংশ না ১০ শতাংশ লেস আছে।’
নথিতে দেখা যায়, বিল্লাল রিয়াদের কথা বললেও এই কাজ বাস্তবায়ন করেছে এই ছাত্রলীগ নেতার ছোট ভাই ইকবাল হোসেন।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বরাদ্দ নিয়ে যদি কোনো নয়-ছয় করা হয় তাহলে সেটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম জাকারিয়া বলেন, ‘কাছ থেকে যে অভিযোগটি এখানে আমি জানলাম, সেটি আমি নোটডাউন করেছি এবং আমি খোঁজ খবর নেব। খোঁজ খবর নিয়ে যদি সত্যি সত্যি এখানে কোনো ব্যত্যয় হয়ে থাকে আমার প্রশাসক মহোদয় আছেন উনার সাথে আলাপ করে যে আইনগত প্রক্রিয়া আছে বা ব্যবস্থা আছে আমি সেটা নেব।’
সূত্র : কালের কন্ঠ