1. live@dailypurbavas24.com : news online : news online
  2. info@dailypurbavas24.com : দৈনিক পূর্বাভাস :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

সৌদি আরবে গৃহকর্তা দ্বারা নির্যাতিত নারায়ণঞ্জের তানজিলা, দেশে ফেরার আকুতি

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ১৮৬ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : 

কর্মসংস্থানের খোঁজে গৃহকর্মী ভিসায় সৌদি গিয়ে নির্যাতিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জের গৃহবধূ তানজিলা। পরিবারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের কাছে দেশে ফেরার আকুতি জানিয়েছেন অসুস্থ হয়ে পরা এই নারী। অভিযোগে জানা গেছে, অভাব-অনটনের সংসারে কিছুটা স্বস্তি চেয়েছিলেন নারায়ণগঞ্জের তানজিলা। স্বামী হাসানের সাথে কথা বলে ঢাকার নয়া পল্টনের ফার্স্ট সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল লি. এর মাধ্যমে কিছুদিন আগেই পাড়ি জমিয়েছিলেন সৌদি আরবে। জেদ্দা থেকে ১৫০ কিলোমিটার দূরে তায়েফ নামক এলাকায় কফিলের বাসায় হাসিখুশি কাজে যোগ দেন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর তার হাতের মোবাইল কেড়ে নেয়া থেকে শুরু করে খাবার না দেয়া, পোশাক না দেয়া, অসুস্থতায় চিকিৎসা না করানো এবং মানসিক নিপীড়ন সহ নানাভাবে নির্যাতন করা হয় এই নারীকে। তানজিলা এই প্রতিবেদককে জানান, আমি এখানে আসার পর আমার হাতের মোবাইলটি তারা কেড়ে নেয়। বাড়িতে সপ্তাহে ২ তিন কথা বলতে দেয় ১০ মিনিটের জন্য, তাও কথা বলার সময় তারা দাঁড়িয়ে থাকেন এবং আমাকে এত অত্যাচার করার বিষয়টি যেনো দেশে না বলি, সেজন্য আমাকে হুমকি ধামকি দেয়। আমার গাইনী একটি সমস্যার কারণে ২৫দিন ধরে ব্লিডিং হচ্ছে, আমার শরীর নিস্তেজ হয়ে যাবার পরেও তারা আমার চিকিৎসা করায়নি। বিষয়টি আমার পরিবারের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি আপা জানার পর সৌদিতে অবস্থিত বাংলাদেশী দূতাবাসে কমপ্লিন করলে আমাকে হাসপাতাল নেন কফিল। তানজিলা বলেন, সাবলম্বী হওয়ার জন্য আমি সৌ এসেছিলাম। কিন্তু এখানে এভাবে থাকলে আমার লাশ যাবে দেশে। দয়া করে আপনারা আমাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করুন। আমি ফার্স্ট সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল লি. এর পরিচালক রফিকুল ইসলাম সুমন সহ রিক্রুটিং অফিসের কর্মকর্তাদের জানানোর পরও তারা আমাকে সাহায্য করছেন না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিক্রুটিং এজেন্সির পরিচালক রফিকুল ইসলাম সুমন এ প্রতিবেদককে বলেন, ২ বছরের চুক্তিতে এই নারীকে আমরা সৌদি গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছি। সুতরাং পরিবার থেকে ক্ষতিপূরণ না দিলে আমরা কিছুই করতে পারব না। এদিকে তানজিলার স্বামী হাসান জানান, আমার স্ত্রীকে সৌদি পাঠানোর পর থেকে আমরা শান্তিতে নেই। আমরা অত্যন্ত গরীব মানুষ। সৎভাবে পরিশ্রম করে টাকা উপার্জনের জন্য স্ত্রীকে সৌদি পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে যাবার পর আমার স্ত্রীকে যেভাবে একের পর এক কষ্ট দেয়া হচ্ছে, তাকে অত্যাচার করা হচ্ছে, তাতে করে ওকে আর সেখানে রাখা নিরাপদ মনে করছি না। কিন্তু এ বিষয়ে ফার্স্ট সার্ভিস ইন্টারন্যাশনাল লি. এর কর্মকর্তাদের কোনো ধরনের সহযোগিতা পাচ্ছি না। তাই আমরা সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি আপার সরণাপন্ন হয়েছি। তিনি সৌদিতে দূতাবাসে কথা বলেছেন। এর বাইরে আমার স্ত্রী জীবিত আছে নাকি নেই, সুস্থ আছে নাকি নেই, তার কিছুই আমি জানিনা। দূতাবাসে কমপ্লিন করার পর থেকে আমার স্ত্রীর সাথে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে আমাদের। তাছাড়া এজেন্সি থেকে যে ক্ষতিপূরণ দাবি করা হচ্ছে, আমাদের মত গরীব মানুষের পক্ষে তা দেয়া সম্ভব না। এসময় তিনি বলেন- এই এজেন্সি ও দালালের কারণে আমার স্ত্রী আজ বিপদগ্রস্থ, আমি এই কর্মকর্তা ও দালালের সঠিক বিচার চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গৃহকর্মীর কাজে যাওয়া নারীদের কল্যাণে নিবেদিত সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী সোনিয়া দেওয়ান প্রীতি বলেন- তানজিলার যে পরিস্থিতি, তা বেশিরভাগ নারী গৃহ কর্মীর ক্ষেত্রেই হচ্ছে। আমি মনে করি এর জন্য দায়ী একমাত্র রিক্রুটিং এজেন্সি। কারণ, তারা এ সব কিছু জেনে বুঝে এবং মিথ্যে প্রলোভন দিয়ে নারীদের সৌদিতে পাঠাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন- যদি তানজিলাকে দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনা না হয়, তাহলে আমরা মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলন থেকে শুরু করে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© www.dailypurbavas24.com