আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি মজুতধারী দেশগুলোর অন্যতম দেশ হিসেবে পরিচতি সার্বভৌম রাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় শনিবার (৩ জানুয়ারি) মার্কিন ‘ডেল্টা ফোর্স’ এক অতর্কিত অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেন্সকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযানের ঘোষিত কারণগুলো হলো অভিবাসন, মাদক এবং ‘নার্কো-সন্ত্রাসবাদ’। হামলার পর ভেনেজুয়েলা সরকার দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের পর এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ভেনেজুয়েলা শেষে পরবর্তী লক্ষ্য কি তবে ইরান? 
ইরানে গত কয়েক দিন ধরে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি ও বেকারত্বের দাবিতে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। বিক্ষোভ দমনে তেহরান যখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে, ঠিক তখনই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিস্ফোরক হুঁশিয়ারি দেন। ইরানে চলমান গণবিক্ষোভকে সমর্থন জানিয়ে দেশটির বিরুদ্ধেও সামরিক হামলার হুমকি দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, যদি ইরান তার নিজ দেশের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলায় হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সার্বভৌম আঞ্চলিক অধিকার উপেক্ষা করে দেশটির ভেতরেই সম্ভবত একটি নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন ।
আধুনিক ভূ-রাজনীতির মূল চাবিকাঠি তেল ও গ্যাস। বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি মজুতধারী দেশগুলোর অন্যতম ভেনেজুয়েলা ও ইরান। ভেনেজুয়েলায় হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপর যদি ইরানের পারস্য উপসাগরে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানে চলমান সাম্প্রতিক বিক্ষোভ এবং তার প্রতি ট্রাম্পের খোলাখুলি সমর্থন ইরান, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলির জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা স্বরূপ। মধ্যপ্রাচ্যের শত্রু দেশ ইরানের ওপরও হয়ত একই ধরনের কোনো সামরিক পরিকল্পনা সাজাচ্ছে মার্কিন প্রশাসন।
ভেনেজুয়েলার ওপর এ হামলা প্রমাণ করে যে ট্রাম্প প্রশাসন এখন ‘ডিরেক্ট অ্যাকশন’ বা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের পথে হাঁটছে। একটি সার্বভৌম দেশে ঢুকে দেশটির প্রেসিডেন্টকে সস্ত্রীক তুলে নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে চরম বিতর্কিত অধ্যায়। অথচ, ট্রাম্প প্রশাসন একে একটি ‘সফল অপরাধ দমন অভিযান’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এ সাফল্যই এখন ট্রাম্প প্রশাসনকে ইরানের মতো শক্তিশালী শত্রুর বিরুদ্ধেও সাহসী করে তুলতে পারে।
তবে ইরানে হামলার ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হতে পারে। গত বছর ইসরাইল ইরানের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এবং এক বিশাল প্রক্সি নেটওয়ার্কে কাছে যথেষ্ট নাস্তানাবুদ হয়েছিল। ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান তার সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের সামরিক শক্তির পরিচয় দিয়েছিল, যা থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই শিক্ষা নিতে পারেন।