
পাকিস্তান, যা প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে আমদানি করে, সেখানে সরকার জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় স্কুল বন্ধ, সরকারি অফিসে চারদিনের কর্মসপ্তাহ, আংশিক ওয়ার্ক ফ্রম হোম এবং জ্বালানি ভাতা কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঈদের আগে জ্বালানির দাম না বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে বলেন, বাড়তি খরচ সরকার বহন করবে।
তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যুদ্ধ দীর্ঘ হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়বে এবং অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়তে পারে।
বাংলাদেশে, যেখানে প্রায় ৯৫ শতাংশ তেল আমদানি করা হয়, কিছু এলাকায় পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যদিও রেশনিং পদ্ধতি চালু করে আবার তা বন্ধ করা হয়েছে।
শ্রীলঙ্কায় পরিস্থিতি আরও কঠিন। ২০১৯ সালের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করা দেশটি এখন জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রতি বুধবার সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে এবং যানবাহনের জন্য বাধ্যতামূলক ফুয়েল পাশ চালু করেছে।
মিসরে, যা মধ্যপ্রাচ্যের বড় জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর একটি, সরকার দোকানপাট ও শপিংমল দ্রুত বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার কমাতে ব্যবস্থা নিয়েছে। পাশাপাশি জ্বালানির দাম ১৫ থেকে ২২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে সাধারণ মানুষের ওপর চাপও বাড়ছে। উন্নয়নশীল দেশে মানুষ তাদের আয়ের বড় অংশ খাদ্য ও জ্বালানিতে ব্যয় করে, ফলে দাম বাড়লে তাদের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে সরকারগুলোর পক্ষে ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। বিশেষ করে পরিবহণ খরচ বাড়ার প্রভাব শিগগিরই খাদ্যের দামেও পড়বে।
উদাহরণ হিসেবে বলা হচ্ছে, পাকিস্তানে গম উৎপাদন ও পরিবহনে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা বেশি। ফলে ডিজেলের দাম বাড়লে আটা ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের দামও বাড়বে।
সার্বিকভাবে, এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করলেও এর সবচেয়ে বড় বোঝা বইতে হচ্ছে দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোকেই।