1. live@dailypurbavas24.com : news online : news online
  2. info@dailypurbavas24.com : দৈনিক পূর্বাভাস :
বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২১ পূর্বাহ্ন

আবু সাঈদের মাথার পেছনে গুলি ছিল, সারা বুক দিয়ে রক্ত ঝরছিল : মকবুল হোসেন

প্রতিবেদকের নাম:
  • প্রকাশিত: শনিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৫
  • ২৫৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন তার বাবা মকবুল হোসেন। মৃত্যুর আগে ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে চান বলে ট্রাইব্যুনালে আকুতি জানান আবু সাঈদের বাবা। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। জবানবন্দিতে মকবুল হোসেন জানান, আবু সাঈদের লাশ বাড়িতে আনার পর গোসল করানোর সময় মাথার পেছনে রক্ত ঝরতে দেখা যায়। বুকে গুলির চিহ্ন ছিল। চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

জবানবন্দিতে মকবুল হোসেন বলেন, সেদিন প্রথমে শুনি আবু সাঈদের গুলি লেগেছে, পরে শুনিÑ আমার আবু সাঈদ মারা গেছে। এই খবর শুনে আমার মাথায় আসমান ভেঙে পড়ে। আমি শহীদ আবু সাঈদের পিতা। আমার ছেলে আবু সাঈদ মেধাবী ছাত্র ছিল। সে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছিল এবং এসএসসিতে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছিল। সে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ছাত্র ছিল। আবু সাঈদ টিউশনি করে নিজের খরচ চালাত বলে জানান তিনি। মকবুল হোসেন আরও বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আমি মাঠ থেকে কাজ করে বাড়িতে এসে দেখি, সবাই কান্নাকাটি করছে। প্রথমে শুনি, আবু সাঈদের গুলি লেগেছে। পরে শুনি, আমার আবু সাঈদ মারা গেছে। এই খবর শুনে আমার মাথায় আসমান ভেঙে পড়ে।
জবানবন্দিতে আবু সাঈদের বাবা আরও বলেন, ‘গত বছরের ১৬ জুলাই দুপুরে বাড়িতে এসে শুনতে পাই, আবু সাঈদের গুলি লেগেছে। পরে জোহরের আগে শুনলাম, আবু সাঈদ মারা গেছে।’ এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। মকবুল হোসেন বলতে থাকেন, ‘খবর শুনে আমার দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জামাই বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ছেলের লাশ পায়নি। লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য নিয়ে গেছে। পোস্টমর্টেমের পর রাত সাড়ে ৩টায় লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে। প্রশাসনের লোকজন রাতেই লাশ দাফন করতে বলেছিল। আমি রাজি না হওয়ায় পরদিন সকাল ৯টায় দুইবার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।’
আবু সাঈদের বাবা বলেন, ‘আবু সাঈদের লাশ বাড়িতে আনার পর গোসল করানোর সময় দেখা যায়, মাথার পেছনে রক্ত ঝরছে। বুকে গুলির চিহ্ন ছিল। পরে শুনেছি পুলিশ সদস্য আমির আলী ও সুজন চন্দ্র দাস আমার ছেলেকে গুলি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই ঘটনার দুই-তিন দিন আগে ছাত্রলীগ নেতা পমেল বড়ুয়া আমার ছেলেকে গলা চেপে ধরে থাপ্পড় মেরেছিল। আমার ছেলেকে যারা শহীদ করেছে সরকারের কাছে তাদের কঠোর বিচার চাই। আমার মৃত্যুর আগে যেন ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারি এটাই আমার চাওয়া।’
মকবুল হোসেন আরও বলেন, ‘এই হত্যার সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ-যুবলীগসহ সবার বিচার চাই। এটাই আমার দাবি। আমি আগে মানুষের কাছে গল্প করতাম, আমার ছেলে সরকারি চাকরি করবে, এটা দেখে যাব। এখন আমার মৃত্যুর আগে যেন ছেলে হত্যার বিচার দেখে যেতে পারি, এটাই আমার চাওয়া।’
গত ৬ আগস্ট আদালত ৩০ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার ২৬ জন আসামি এখনো পলাতক আছেন, যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদ। পলাতক আসামিদের পক্ষে সরকার চারজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছে । গত ২৯ ও ৩০ জুলাই এসব আসামির পক্ষে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গত ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছিল এবং ৩০ জুন সেই প্রতিবেদন আমলে নেওয়া হয়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন যখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। ২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© www.dailypurbavas24.com