
ড. আবদুল আউয়াল
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তখনকার মুসলিম লীগ সরকার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুসারী তথা মুসলিম লীগের প্রগতিবাদী ও গণতান্ত্রিক ধারায় বিশ্বাসী অংশকে চরম দমন–নিপীড়নের মাধ্যমে সমূলে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। এমতাবস্থায়, মুসলিম লীগ সরকারের দুঃশাসন ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেই ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার টিকাটুলি কে এম দাস লেনের রোজ গার্ডেন বাড়িতে আওয়ামী মুসলিম লীগের আত্মপ্রকাশ ঘটে। মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং শেখ মুজিবুর রহমান (নিরাপত্তা বন্দি অবস্থায়) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ প্রায় ৪০ সদস্যের কার্যকরী কমিটিকে নির্বাচনের মাধ্যমে এই নতুন দলের যাত্রা শুরু হয়। আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার কিছুদিন আগে, অর্থাৎ ১৯৪৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের একটি উপনির্বাচনে মুসলিম লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী করটিয়ার জমিদার হুমায়ুন খান পননীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তরুণ শামসুল হক বিপুল ভোটে পরাজিত করে সারা দেশে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মুসলিম লীগ সরকার নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়েরসহ আরও মিথ্যা মামলা দিয়ে শামসুল হককে গ্রেফতার করে এবং বিভিন্ন ষড়যন্ত্র, কূটকৌশল ও অত্যধিক মানসিক চাপ প্রয়োগ করে জনাব শামসুল হককে বিষণ্নগ্রস্ত করে তোলে। এক পর্যায়ে শামসুল হক মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এমতাবস্থায় ১৯৫২ সালের শেষের দিক থেকেই যুগ্ম সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন এবং ১৯৫৩ সালের দলের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দলকে সার্বজনীন করার লক্ষ্যে ১৯৫৫ সালের সম্মেলনে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দিয়ে সংগঠনের নাম ‘আওয়ামী লীগ’ করা হয়।
এত ষড়যন্ত্রের পরও দেখা গেল ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্টের ব্যানারে আওয়ামী লীগ এককভাবে ১৪৩ আসনে জয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। শেরে বাংলার নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্ট সরকারকে চক্রান্ত করে পাকিস্তান সরকার এক মাসের মধ্যে বরখাস্ত করে গভর্নরের শাসন জারি করে। এর পরেই কেন্দ্রের মুসলিম লীগ সরকার শেরে বাংলার কৃষক শ্রমিক পার্টির সাথে গোপনে হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্র করে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার জন্য আপ্রাণ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখে। ফলে আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে প্রদেশে তিনবার সরকার গঠন করেও টিকে থাকতে পারেনি। এরপর আরেক ষড়যন্ত্র। ১৯৫৭ সালের ১৭ মার্চ আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট মওলানা ভাসানী আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করে ঐ বছরেই ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) নামে নতুন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এ প্রসঙ্গে একুশে গানের রচয়িতা প্রয়াত আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বলেছিলেন যে আওয়ামী লীগের বামপন্থী গ্রুপ মওলানা ভাসানীকে দলে নিয়ে একসঙ্গে আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ন্যাপ নামে নতুন দল গঠন করে এবং দেশের গণতান্ত্রিক ঐক্যে ভাঙন ধরিয়ে আইয়ুব খানের জন্য ক্ষমতা দখল সহজ করে দেয়। তখন অনেকেই বলাবলি করছিলেন ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাপই বড় সংগঠন হবে, আওয়ামী লীগ দুর্বল হয়ে যাবে। এমতাবস্থায়, ১৯৫৭ সালের ৩০ মে বঙ্গবন্ধু প্রাদেশিক মন্ত্রিত্ব ছেড়ে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠন গোছানোতে মনোযোগ দিলেন। ১৯৫৮ সালের অক্টোবরে সেনাপ্রধান আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করলে দেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থগিত হয়ে যায়। ১৯৬৪ সালে বঙ্গবন্ধু নিজ উদ্যোগে আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করেন এবং ঐ বছরেই সম্মেলনের মাধ্যমে মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশকে সভাপতি এবং নিজে সাধারণ সম্পাদক থেকে দলের কার্যক্রমে গতি আনেন। ঐ সময়ে দলের সিনিয়র নেতা, সাবেক প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী আতাউর রহমান খান দলের পুনরুজ্জীবিত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ না করে পরবর্তীতে নিজেই জাতীয় লীগ নামে আলাদা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধু বাঙালির মুক্তির সনদ ৬-দফা ঘোষণা করলে কনভেনশন মুসলিম লীগ সমর্থিত আইয়ুব খান সরকার এবং প্রায় সকল বিরোধী দল এর তীব্র বিরোধিতা করে ৬-দফার বিপক্ষে প্রচারে নামে। বঙ্গবন্ধু সহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করেও ৬-দফাকে দমাতে না পেরে অবশেষে সরকার চক্রান্ত করে নিখিল পাকিস্তান আওয়ামী লীগের সভাপতি নবাবজাদা নসরুল্লাহ খান, সেক্রেটারি জহির উদ্দিন, সালাম খানসহ সিনিয়র নেতাদের দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও তার সমর্থকদের বাদ দিয়ে একটি বিকল্প আওয়ামী লীগ গঠনের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি শুধু তৃণমূল সমর্থকদের কারণে। এর পরের ইতিহাস সবারই জানা। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্মের তিন বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে সংগঠন থেকে বিদায় নিলেন, সাত বছরের মাথায় প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি পদত্যাগ করে ন্যাপ গঠন করলেন, ৬-দফা ঘোষণার পর দলের সিনিয়র নেতারা—অর্থাৎ প্রতিষ্ঠাকালীন কার্যকরী কমিটির প্রায় সবাই—দল ছেড়ে চলে গেলেন। এমন সকল কঠিন মুহূর্তে কেবল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একক প্রচেষ্টায় তরুণ নেতৃত্ব তৈরি করে জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ করেন এবং জনগণকে নিয়ে দেশকে স্বাধীন করেন। এ এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
দেশ স্বাধীন হলেও স্বাধীনতাকে নস্যাত্ এবং আওয়ামী লীগকে ঘায়েল করার ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ১৯৭২ সালের জুলাইয়ে ছাত্রলীগে ভাঙন এবং ঐ বছর অক্টোবরে জাসদের সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে এবং আওয়ামী লীগকে অস্থিতিশীল করার মিশন নিয়ে তাদের ষড়যন্ত্র শুরু। তিন বছরে আওয়ামী লীগের আটজন এমপি সহ অসংখ্য নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়। এহেন অবস্থায় ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি সব দল নিয়ে বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করে সমবায়ের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দেশ স্থিতিশীলতার দিকে এগোনোর মুহূর্তেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যা করে বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ধারায় পরিচালনা শুরু করে। সুকৌশলে বঙ্গবন্ধুকে নিষিদ্ধ এবং আওয়ামী লীগে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা অব্যাহত রাখে।
১৯৭৬ সালে দলের কার্যক্রম শুরুর জন্য আওয়ামী লীগ আবেদন করলে ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধুর নাম থাকায় আওয়ামী লীগকে নিবন্ধন দেয়নি। পরে জানা গেল হীন উদ্দেশ্যে দল নিবন্ধন নীতিমালার ৬ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখ ছিল যে দলের আবেদনে “কোনো জীবিত বা মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে কোনো রূপ ব্যক্তি পূজার উদ্রেক বা ব্যক্তিত্বের মহত্ত্ব প্রচার বা বিকাশ নিষিদ্ধ করা হলো।” বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধুর নাম বাদ দিয়েই পুনরায় আবেদন করা হয় এবং আওয়ামী লীগ ঘরোয়া রাজনীতির চালুর অনুমতি পায়। অন্যদিকে দল ভাঙার ষড়যন্ত্রও কিছুটা সফল হয়। মিজানুর রহমান আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে ‘মিজান আওয়ামী লীগ’ গঠন করেন।
তবুও ষড়যন্ত্র থেমে নেই। ১৯৮১ সালের ফেব্রুয়ারির কাউন্সিলে সভাপতির পদ নিয়ে আওয়ামী লীগ আবারও ভাঙনের মুখে। সম্মেলনের শেষ দিন ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দলের সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নাম প্রস্তাব করলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়। ১৯৮১ সালের ১৭ মে ছয় বছরের নির্বাসন জীবন কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ফিরে এসে আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। সেদিন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা শুধু আওয়ামী লীগের ঐক্যের প্রতীক নয়, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশটাকেও সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন।
কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা তো বসে থাকে না। দু’বছর না যেতেই দলীয় চরম শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ১৯৮৩ সালে দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রাজ্জাকসহ ছয়জনকে বহিষ্কার করতে বাধ্য হন দল। মহিউদ্দিন আহমেদ এবং আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে ‘বাকশাল’ নামে নতুন দল গঠিত হয়। এর প্রভাব ছাত্রলীগেও পড়ে। ফলে ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে জয়ের কাছাকাছি যেয়েও আওয়ামী লীগ হেরে যায়। হারার মূল কারণ তিনটি—বাকশালের আলাদা নির্বাচন করা, জামায়াতে ইসলামীসহ সকল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সাথে বিএনপির গোপন আঁতাত ও ঐক্য, এবং আওয়ামী লীগের অতি আত্মবিশ্বাস।
অবশ্য পরবর্তীতে আবদুর রাজ্জাকের নেতৃত্বে বাকশাল বিলুপ্ত করে আওয়ামী লীগে ফিরে আসলেও ষড়যন্ত্র তো থেমে থাকে না। এবার ড. কামাল হোসেন দল ত্যাগ করে নিজেই আলাদা দল গঠন করার উদ্যোগ নিলেন। ড. কামাল হোসেনের আহুত প্রথম সভায় যারা বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে গণতান্ত্রিক ফোরামে যোগ দিয়েছিলেন (ঢাবির সাবেক উপাচার্য ফজলুল হালিম চৌধুরী, সুফিয়া কামাল, ড. নীলিমা ইব্রাহিম, ড. সৈয়দ ফিরোজা বেগম, দিলীপ বড়ুয়া, নুরুল ইসলাম নাহিদ, শাহজাহান সিরাজ, শিরীন আক্তার, বিচারপতি কেএম সোবহান, ব্যারিস্টার আমীরুল ইসলাম, আবুল আল আবদুল মুহিত, শেখ আবদুল আজিজ, মেজর জেনারেল খলিলুর রহমান প্রমুখ)—তা দেখে অনেকেই মনে করছিলেন ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে এই নতুন ফোরামই এগিয়ে যাবে।কিন্তু দিন শেষে বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ স্বমহিমায় এগিয়ে যায় এবং বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বাংলাদেশের ইতিহাসে পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার পর শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন তখনকার বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যার দ্বিতীয় উদাহরণ বাংলাদেশে এযাবৎকালে নেই।
তারপরও অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা হয়। শুধু তাই নয়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার লক্ষ্যে এক ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা করা হয়। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা সহ বেশির ভাগ নেতৃবৃন্দ প্রাণে বেঁচে গেলেও আইভি রহমান সহ ২৪ জন প্রাণ হারায় এবং আনুমানিক পাঁচশ’ জন স্প্লিন্টার নিয়ে কেউ কেউ মারা গেছেন এবং বাকিরা পঙ্গুত্ব নিয়ে জীবন কাটাচ্ছেন।
এবার আরেক ষড়যন্ত্র। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের বিএনপি–জামায়াত জোট সরকারের তাণ্ডবে দেশবাসী অতিষ্ঠ হয়ে যখন আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে প্রস্তুত, ঠিক সেই মুহূর্তে দেশি–বিদেশি চক্রটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের সহযোগিতা না করে ২০০৭ সালে সেনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলার নামে মূলত বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে এক ঘৃণ্য চক্রান্তে লিপ্ত হয়। সেদিনও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জনাব জিল্লুর রহমান এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের দৃঢ়তায় এবং তৃণমূলের কঠোর মনোভাবের কারণে সেই প্রচেষ্টা ভেস্তে যায়।ফলে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনে মহাজোটের ব্যানারে আওয়ামী লীগ ভূমিধ্বস বিজয় অর্জন করে। জনগণের এই ভালোবাসাকে স্মরণ রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন মহাজোটের ঐ সরকার। তাই চক্রান্তকারীরা এবার চূড়ান্ত আঘাত হেনেছে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মাধ্যমে বেশির ভাগ জনগণকে ভুল পথে পরিচালিত করে একটি সহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মুহাম্মদ ইউনুস মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রম অবৈধভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। অর্থনীতি সহ দেশ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। বিএনপিও মুহাম্মদ ইউনুসের সকল কার্যক্রমের বৈধতা দিয়ে একই পথে হাঁটছে। বরং আবার সেই পুরানো চক্রান্তে নেমেছে—বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিকল্প নেতৃত্ব আনার ঘৃণ্য অপচেষ্টাও করে ব্যর্থ হচ্ছে।কারণ আওয়ামী লীগের তৃণমূল সহ সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বেই এখনও ঐক্যবদ্ধ। তারা এও মনে করে যে শুধু আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ রাখা নয়, এ দেশকে ষড়যন্ত্রকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করতে হলে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। এছাড়াও শুধু আওয়ামী লীগের তৃণমূল নয়, এ দেশের অধিকাংশ জনগণ মনে করে বাংলাদেশ শেখ হাসিনার সময়ই ভালো ছিল; এই মুহূর্তে দেশকে সঠিক পথে আনতে হলে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। তাই দেশের জনগণ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার আগমনের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
গত ৯ জুন “এই সময়”–কে একান্ত সাক্ষাৎকারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছেন, “আজ বাংলাদেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক নয়। গণতন্ত্র আক্রান্ত। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ করার আইন করা হয়েছে। আমার নেতাকর্মীরা কারাগারে। অনেকে ঘরছাড়া। সংখ্যালঘুরা আতঙ্কে রয়েছেন। নিরীহ শিশুরা টিকার অভাবে মারা যাচ্ছে, ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। রাষ্ট্রকে ১৯৭১-এর পথ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এমন একটা সময়ে আমি কিভাবে বলি, আমি বিশ্রামে যাচ্ছি? আমি ক্ষমতা চাই না। কিন্তু জনগণের প্রতি আমার দায়িত্ব অস্বীকার করতে পারিনা।”
আরেক প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, “যারা আদর্শের জন্য এ দলে ছিলেন, তারা আজকের দুর্দিনে আরও দৃঢ়ভাবে দলের পাশে আছেন। আর যারা ব্যক্তিগত সুবিধা ও ক্ষমতার আশায় ছিলেন, তারা ইতিমধ্যে ভোল পাল্টে ফেলেছেন বা চুপ করে গিয়েছেন। এটা দলকে দুর্বল করেনি, বরং খাঁটি করেছে।”
ড. আবদুল আউয়াল : সাবেক উপাচার্য,সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়