
জয়পুরহাট প্রতিনিধি : জয়পুরহাটের কালাই পৌরসভার আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক শাহারুল আলমের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, কালাই পৌরসভার আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক শাহারুল আলম তার নিজ মহল্লার আওড়ার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কালাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলনের দুর সম্পর্কের চাচা ভাতিজা পরিচয় দিয়ে তিনি বিদ্যালয়ে না গিয়ে প্রভাব খাটিয়ে তার ছত্রছায়ায় কালাই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে (দোকানে) বসে বছরের পর বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে হাজিরা খাতায় ইতিপূর্বে স্বাক্ষর করেছেন এবং এখনও করছেন। এ ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং মহল্লার সচেতন মহলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ ছাড়াও তিনি প্রভাব খাটিয়ে ৪শ মিটার দূরে তার নিজ বাসা ভাড়া দিয়ে উপজেলা পরিষদের সরকারি আবাসিক ভবনে স্বপরিবারে অবৈধভাবে বছরের পর বছর বসবাস করলেও ভাড়া দেন না তিনি। অথচ ভবনগুলোর জন্য বিদুৎ বিল ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়। অন্য দিকে প্রতি বছরে রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। অথচ, সরকারি সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বেতনের সঙ্গে বেসিক অনুযায়ী বাসা ভাড়াও দেওয়া হয়। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান সরকারি আবাসিক ভবনের ভাড়া তার কাছ থেকে মৌখিকভাবে তাগাদা দেন। কিন্তু তাতেও তিনি সারা দেননি। ফলে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে ইউএনও স্বাক্ষরিত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বাকি বাবদ একটি নোটিশও তাকে করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের দুজন সহকারী শিক্ষক জানান, এ স্কুলের সভাপতি সহজ সরল মানুষ ছিলেন। তার দূর্বলতার সুযোগ কাজে লাগিয়ে এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় সহকারি প্রধান শিক্ষক শাহারুল আলম দিনের পর দিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেছেন। করেছেন নিয়োগ বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতি। এমনকি থানার একজন অসুস্থ কর্মকর্তার কিডনি সংগ্রহ করে দিয়ে তিনি কিডনি দালাল বনে যান। অধিকন্তু তার কিডনি দালালির বিষয়টি এক সময় মামলা পর্যায়ে গেলে, উপরিউক্ত আওয়ামী লীগ নেতার হস্তক্ষেপে তিনি পার পেয়ে যান।
আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না, রুহী,জিহাদ, রাকিবুলসহ আরো অনেকে জানান,সহকারি প্রধান শিক্ষক তাদের কোন ক্লাস পায়না, স্কুলেও আসে না।
আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক শাহারুল আলম জানান, দোকানে বসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেছেন এটা মিথ্যা কথা। তার সার্টিফিকেট সমস্যা থাকার কারণে তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাননি। তবে বেতনের টাকা পাওয়ার সাথে সাথে তিনিও নিয়মিত ক্লাস করবেন এমন মন্তব্যও তার।
এ বিষয়ে আওড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলম মোস্তফা জানান, অভিযুক্ত শিক্ষক শাহারুল আলম মাঝে মধ্যে স্কুলে উপস্থিত হন। তখন তিনি হাজিরা খাতায় স্বাক্ষরও করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কাজী মো. মনোয়ারুল হাসান জানান, এ বিষয়ে ইতোপূর্ব কেউ তাকে জানাননি বা অভিযোগও দেননি। তাই সেটা তার জানার বাইরে। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
কালাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামিমা আক্তার জাহান জানান, বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করার কোন নিয়ম নাই। অভিযোগ সত্য হলে এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুঠোফোনে জানান , তিনি রাজশাহীতে একটি জরুরী মিটিংয়ে আছেন। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।