কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দিনভর ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, পেশা নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষ শ্রদ্ধা জানান। খালি পায়ে, সারিবদ্ধভাবে ফুল হাতে ও একুশের প্রতীক সাদা-কালো পোশাকে তারা শ্রদ্ধা জানাতে আসেন। শনিবার প্রথম প্রহরে (রাত ১২টা ১ মিনিটে) শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়ে সেহরি পর্যন্ত চলে। এরপর সকাল সাড়ে ৬টা থেকে প্রভাতফেরিতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান শ্রদ্ধা জানায়। এদিন শ্রদ্ধার ফুলে ভরে ওঠে স্মৃতির মিনার। এছাড়া দিনটি উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ সারা দেশে সামাজিক, সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করে। এসব কর্মসূচিতে একুশের চেতনাকে পথেয় করে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন প্রথম শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। রাত ১২টা ৮ মিনিটে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যরা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর পর বিএনপি ও জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপরই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসাবে ১২টা ১০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথমবারের মতো পুষ্পস্তবক অর্পণ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোট। এরপর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা। তিন বাহিনীর পক্ষে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন শ্রদ্ধা জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ও বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) বাহারুল আলম শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া শ্রদ্ধা জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকরা। তাদের পরে শহীদ মিনারে ওঠেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ অন্য কমিশনাররা।
রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, এনডিএম, এবি পার্টি, জাতীয় পার্টি, বিজেপি, জেপি, সিপিবি, বাসদ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জেএসডি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এছাড়া ছাত্রদলের পাশাপাশি ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রফ্রন্ট ও ছাত্রমৈত্রীর নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ ঢাকার প্রধান কলেজগুলো এবং জুলাই ঐক্য ও জুলাই মঞ্চের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এছাড়া ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ছায়ানট, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ, টিআইবি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ স্কাউটস, উদীচী, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করেই একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই মুক্তিযুদ্ধের সূচনা হয়েছিল, আর সেই ধারাবাহিকতায় জনগণের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।
ঢাবি উপাচার্য
শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়াজ আহমেদ খান সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু করতে সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও তা আরও বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। উপাচার্য বলেন, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে আমরা সব শহীদদের বিনম্রচিত্তে স্মরণ করছি। নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাসহ সব মাতৃভাষার প্রতি আমরা সম্মান জ্ঞাপন করছি। মাতৃভাষার ঐতিহ্য সংরক্ষণে আমাদের যে উদ্যোগ, তা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাক।
বাউবি উপাচার্য
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে শিক্ষা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশের মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক, সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সেজন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে দুর্নীতি ও ধর্মান্ধতাকে প্রতিহত করে একুশের চেতনা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তিনি বলেন, দুর্নীতি একুশের চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
একুশের চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান
ভাষাশহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম একুশের চেতনাকে ধারণ করে দেশের সব দল, মত ও পথের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের শ্রদ্ধা
শনিবার সকালে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেখা যায় পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদকে। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংগঠনটির সহসাধারণ সম্পাদক কৃতিত্ব চাকমা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে আমাদের নিজস্ব ভাষা রয়েছে ১০টি। এছাড়া পাহাড়ে আমাদের জাতিগোষ্ঠী যারা রয়েছে, প্রত্যেকে নিজস্ব ভাষায় কথা বলি। আমরা বাংলা ভাষাও পারি। ৫২ সালে যারা মাতৃভাষা রক্ষা করার জন্য জীবন দিয়েছেন, বিশ্ব ইতিহাসের এটা বিরল। আমরা আমাদের ভাষার রক্ষার অধিকারের জন্য যে আন্দোলন করি, এই জন্য আমরা অনুপ্রেরণা পাই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে।
শহীদ মিনারে ভিনদেশিরা
ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে দেশের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ভিনদেশিরাও এসেছিলেন শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে কথা হয় কানাডার নাগরিক জেসির সঙ্গে। তিনি বলেন, এটা দেখে খুবই ভালো লাগছে যে, সবাই এখানে তাদের ভাষা ও ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসছে। ভাষার জন্য জীবন দেওয়ার ঘটনা সাধারণত বিরল। আমরা এখানে আসতে পেরে গর্বিত বোধ করছি। ইতালির নাগরিক জোসেফ বলেন, আমাদের এখানে আসতে পেরে খুবই ভালো লাগছে। এটা সবার জন্যই একটি আনন্দঘন এবং আবেগময় মুহূর্ত। নানা দেশ থেকে আমরা আজ এখানে এসেছি। ভাষার প্রতি এমন আবেগ ও ভালোবাসা আমাদের মুগ্ধ করেছে।
একুশ শুধু অতীত নয়, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও
এদিকে শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে শনিবার বিকাল পর্যন্ত শিশু-কিশোর, স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিদেশি নাগরিকসহ নানা বয়সি মানুষকে ফুল, বিভিন্ন ভাষার বর্ণ হাতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী গান গাইতে গাইতে ভাষাশহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শিশুদের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতেও দেখা গেছে অনেক অভিভাবককে। পরিবার-পরিজনসহ অনেকেই আসেন শহীদদের প্রতি সম্মান জানাতে।
স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে আগারগাঁও থেকে এসেছেন ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, আমরা প্রাণখুলে মাতৃভাষায় কথা বলতে পারছি, এই ভাষাকে লেখাপড়া, কর্মক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারছি। পৃথিবীর বহু ভাষাভাষী মানুষ এটা পারে না। আমাদের সন্তানরা যেন এটা অনুধাবন করতে পারে, তাই ওদের নিয়ে এসেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম বলেন, ভাষা আন্দোলন বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের ভিত্তি। একুশ শুধু অতীত নয়, এটি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও।
বাংলা একাডেমি
দিবসটি উপলক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করে বাংলা একাডেমি। প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের নেতৃত্বে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর সকাল ৮টায় বাংলা একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। আসরে শতাধিক কবি স্বরচিত কবিতা পাঠ করেন। সভাপতিত্ব করেন যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার। বেলা ১১টায় একাডেমির নজরুল মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৬’। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। পরে ‘একটি স্কুল-মাসিক ম্যাগাজিন ছাত্র-সুহৃদর ইতিবৃত্ত’ শীর্ষক অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ। এতে সভাপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।
ছায়ানট
এদিকে শহীদদের স্মরণে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্যে দিয়ে ছায়ানটের কর্মসূচি শুরু হয়। এরপর রাজধানীর শংকরের ছায়ানট ভবনের ছায়ানট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় অমর একুশের চেতনায় উদ্ভাসিত গান-কবিতা ও কথনে সাজানো অনুষ্ঠান। ছায়ানটের শিল্পীদের সম্মিলিত কণ্ঠে নজিম মাহমুদের লেখা ‘আমাদের চেতনার সৈকতে’ গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হয় এই ভাষাশহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের শ্রদ্ধার্ঘ্যধর্মী আয়োজন। এরপরে ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলীর কথনের পরে শিল্পী সুস্মিতা দেবনাথ শুচি পরিবেশন করেন ‘মোদের গরব মোদের আশা’ শীর্ষক অতুলপ্রসাদ সেনের ভাষার গান। আয়োজন শেষের আগে ছায়ানটের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে পরিবেশন করে আব্দুল গাফ্ফার চৌধুরীর ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্র“য়ারি’ গানটি। আর সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।
উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী
অমর একুশের সকাল সাড়ে ৬টায় নীলক্ষেত পেট্রোলপাম্পের সামনে থেকে প্রভাতফেরি করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বীর ভাষাশহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। পরে সকাল সাড়ে ৯টায় শিশু একাডেমির সামনে উন্মুক্ত চত্বরে আয়োজন করে একুশের অনুষ্ঠানমালা। এ আয়োজনে অমর একুশের আলোচনা, গান ও আবৃত্তি পরিবেশন করে উদীচীর শিল্পী ও কর্মীরা।
এছাড়াও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার রাশিয়ান দূতাবাসের সেরোভ একাডেমি অব ফাইন আর্টস শিশুদের নিয়ে ‘অমর একুশে’র আবহে বিশেষ ক্লাস ও সৃজনশীল কার্যক্রমের আয়োজন করে। এর বাইরে দিবসটি উপলক্ষ্যে ‘একুশ মানে মাথা নত না করা’ শীর্ষক কর্মসূচি গ্রহণ করে বাংলাদেশ গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ।
ডিএনসিসি ওয়ার্ড ৪২ (বেরাইদ)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বেরাইদ এবং পার্শ্ববর্তী এলাকার গ্রন্থাগার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পাঠক-শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক বর্ণমালা লিখন, সুন্দর হাতের লেখা, রচনা, আবৃত্তি, সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি, বেরাইদ গণপাঠাগার, হালিমা নিবাস গ্রন্থাগার, আরশি টাওয়ার গ্রন্থাগার, একেএম রহমতউল্লাহ কলেজ, বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল, রওশনারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, শতদল হাইস্কুল, বেরাইদ মুহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, আলহাজ রাহীমুল্লাহ মোল্লা দাখিল মাদ্রাসা, বেরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফকিরখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বেরাইদ মডেল স্কুল ও আবদুল মতিন একাডেমি।